1. news@protidinerkhobor.online : প্রতিদিনের খবর : প্রতিদিনের খবর
  2. info@www.protidinerkhobor.online : প্রতিদিনের খবর :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সদর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন অর্থদণ্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু জব্দ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসানিক সার বিতরণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ট্রাকর ধাক্কায় ২ মোটর সাইকেল আরাহী নিহত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত, সদর চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষকদের সেচ সংকট নিরসনে এমপি বুলবুলের সরজমিন পরিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলা প্রশাসন অ্যাপসের মাধ্যমে তেল বিক্রির শুভউদ্বোধন,

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থী নির্যাতনকারী শিক্ষক সেলিম রেজা,

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর তেলীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সেলিম রেজার শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হবার পরে এলাকায় যেমন বিরূপ সমালোচনা হচ্ছে, তেমনি ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবক মহল। এমনকি রীতিমত আতঙ্কিত কচিকাঁচা ছেলেমেয়েদের মা-বাবা। দাবী উঠেছে অন্যত্র পানিসমেন্ট বদলীর।
উপজেলার ধরমপুর গ্রামের শহিদুর রহমানের মেয়ে ‘মিফতাহা রহমান সাবা’ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সে তার স্কুল শিক্ষক সেলিম রেজার কাছে প্রাইভেট পড়ে না। সাবার মা রোকসানা অংকের কলেজ শিক্ষিকা। অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজার কাছে যেসব ছেলেমেয়ে প্রাইভেট পড়ে না  তাদের বিভিন্ন অজুহাতে মানসিক নির্যাতন করে। তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সাথে অন্যদের খেলাধূলা করা ও মিশতে বারণ করেন। বেঞ্চেও আলাদা ভাবে বসতে বলেন। শিক্ষক সেলিম রেজা অংকের ক্লাস নেন এবং একদিন ক্লাস নেয়ার পরে বাড়ি থেকে অংক কষে নিয়ে আসার জন্য টাস্ক দেন। অন্যদের মত ছাত্রী মিফতাহা রহমান সাবাও বাড়ি থেকে মায়ের সহযোগিতায় অংক কষে নিয়ে যায়। ছাত্রী সাবা ও তার মায়ের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে অংক সঠিক হলেও শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন অংকটি সঠিক হয়নি, এই এলাকায় আমার চেয়ে কেউ অংক বেশি বুঝে না! সাবাকে আপত্তিকর কথা বলে। পর পর ৩ দিন শ্রেণি কক্ষে পড়ানোর সময় শিক্ষক সেলিম রেজা ছাত্রী সাবাকে এমনটাই  মানসিক নিপীড়ন করে, যা সে আর সহ্য করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে মা-বাবাকে ঘটনা খুলে বলে। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ শিক্ষার্থী সাবার মা-বাবা সহ অভিভাবক পক্ষের ৭-৮ জন স্কুলে এসে অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজাকে ঘিরে ফেলে । হট্টগোল হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক রিজিয়া খাতুনের কক্ষে গিয়ে অভিভাবক বৃন্দ শিক্ষক সেলিম রেজাকে অন্যত্র পানিসমেন্ট বদলী সহ বিচার দাবী করেন। প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে অভিযোগ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা একটি মুচলেকা লিখে দিয়ে অঙ্গীকার করে যে, সে আর প্রাইভেট পড়াবে না এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটবে না। এদিকে ১০মে ২০২৬ শিক্ষক সেলিম রেজার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর নিকট থেকে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা বেরিয়ে আসে। শিক্ষক সেলিম তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট একদিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে  নিয়ে লিখিয়ে দিতেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগে প্রকাশ, শিক্ষক সেলিম রেজা বাড়িতে আড়াই শ’ মতো ছেলেমেয়েকে প্রাইভেট পড়ান। তার কাছে প্রাইভেট পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশি দেন এবং অন্যদের নম্বর কম দেন, এমন অভিযোগ করেছেন অনেক অভিভাবক। তার কাছে প্রাইভেট না পড়া ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন ছলে মানসিক নিপীড়ন করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনে সেলিম রেজা লম্পট প্রকৃতির। ইতোপূর্বে তার নারীঘটিত নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সন্ধ্যার পরে তার বাড়িতে মেয়েদের প্রাইভেট পড়ানো আর নিরাপদ মনে করছে না অভিভাবক মহল। শঙ্কিত অভিভাবকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। “প্রাইভেট পড়ান ও কোচিং বাণিজ্য” নি±ষিদ্ধ করে ২২-১০-২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ৩৬৮ নম্বর স্মারকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক জারি করা পরিপত্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেট জারি থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ “প্রাইভেট পড়ান ও কোচিং বাণিজ্য ” বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি। শিক্ষা বাণিজ্যের সাথে জড়িত ঐ সব শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষা অফিসাররা মাসোহারা খান এমন মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত শিক্ষক সম্পর্কে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ রিজিয়া খাতুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আগে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা শুনেছি আর এখন প্রমাণ পেলাম। ঘটনা সমূহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা সরকারী চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে’ অর্থাৎ ঘটনা ধামাচাপা দিতে  ১৪ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গোপনে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে। ঐ সম্মেলনে বেপরোয়া শিক্ষক সেলিম রেজা প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি দম্ভ সহকারে প্রচার করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বেআইনি ও  সরকারী স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের ঘটনা প্রধান শিক্ষক লিখিত ভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগী অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যের নিকট অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়ে  কচিং বাণিজ্য পরিচালনা, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার্থী নির্যাতনকারী শিক্ষক সেলিম রেজা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© প্রতিদিনের খবর
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট